Saturday, January 26, 2019

অল্পবয়সী মহিলা এলেন ডাক্তারের কাছে।

অল্পবয়সী মহিলা এলেন ডাক্তারের কাছে।
"ম্যাডাম আমার ১ বছরের একটা বাচ্চা আছে। কিন্তু এরই মধ্যে আমি আবার গর্ভবতী হয়ে পড়েছি। এই মুহুর্তে দুটো বাচ্চা পালন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।"
- "তাহলে আপনি কি করতে চান?"
- "আপনি আমার এবরশনের ব্যবস্থা করুন।"
Image result for অল্পবয়সী মহিলা এলেন ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার সাহেবা কিছুক্ষণ ভাবলেন, এরপর বললেন,
- "এর চেয়ে ভাল একটা উপায় আছে।"
- "কি উপায়?" সাগ্রহে জিজ্ঞেস করলেন মহিলা।
- "আপনার প্রথম বাবুটাকে আমরা দুজনে মিলে মেরে ফেলি। কেউ কিছু জানবে না। এতে সুবিধা হল দ্বিতীয়টা হবার আগে আপনিও কিছুটা সময় পাবেন। রেস্ট নিতে পারবেন।"
শিউরে উঠলেন মহিলা।
- "এ কি বলছেন আপনি! মা হয়ে নিজের সন্তানকে আমি খুন করব!"
ডাক্তার হাসলেন, বললেন,
"দ্বিতীয় বাচ্চাটা কি আপনার সন্তান নয়? তাকে কেন খুন করতে চাচ্ছেন?"
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন আল কুরআনে বলেছেন - "দারিদ্রতার কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তোমাদের রিযিক দেই, আমি তাদেরও রিযিকের ব্যবস্থা করব।"
(সুরা আন আম: ১৫১)

Facebook

প্রচন্ড রকম ডিপ্রেশনে আছেন?

প্রচন্ড রকম ডিপ্রেশনে আছেন?
নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে অসুখী মানুষ মনে হচ্ছে?
খুব বেশি একাকিত্ব লাগে?
রাগ কন্ট্রোল করতে পারেন না?
পরিবারের সাথে, বন্ধু বান্ধবের সাথে মনোমালিন্য চলতেই থাকে?
কোনকিছুতেই মনে শান্তি আসছেনা?
.
Image result for প্রচন্ড রকম ডিপ্রেশনে আছেন?
তাহলে এক কাজ করুন, নামাজটা পড়ে ফেলুন, কিছুক্ষন মসজিদের বারান্দায় নীরবে বসে থাকুন, তারপর একটু কবরস্থান থেকে ঘুরে আসুন, ইচ্ছে করলে একটু কবর জিয়ারত ও করে নিতে পারেন।
তারপর বাসায় আসার পথে কোন অসহায় মানুষকে পাশে বসিয়ে আপনার স্বামর্থ অনুযায়ী কিছু খাওয়াতে পারেন অথবা টাকা পয়সা দিয়েও সাহায্য করতে পারেন।
সাহায্য করার পর অসহায় মানুষগুলোর চেহারার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখবেন, কতোটা খুশি হয় মানুষগুলো, হাসিটা দেখলে মনে হবে আপনিই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদশালী, সুখি মানুষ, আপনার জন্য একটা মানুষ মন খুলে হাসছে, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে?
.
দেখবেন আরও হাজার বছর বাঁচতে ইচ্ছে করবে, সকল ডিপ্রেশন কেটে যাবে, নিজেকে সুখী মানুষ মনে হবে, নিজের জীবনের গুরুত্বটা ঠিক তখনি বুঝতে পারবেন। 

আমার জনৈক বান্ধবীর রিলেশনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ।

আমার জনৈক বান্ধবীর রিলেশনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। প্রতিদিন বফের সাথে ঝগড়া হতো। প্রতিদিন মিটমাট হতো আর ও প্রায়ই আত্নহত্যা করতে যেত।
ওকে নিয়ে আমি ভয়ে ভয়ে থাকতাম বিধায় প্রতিদিন আমাকে খোঁজ নিতে হতো আজ ও আত্নহত্যা করতে যাবে কিনা।আর ও এমন মেয়ে মুখ ফুটে বলবে না ওর মন খারাপ নাকি ভালো। সুতরাং একটা ট্রিকস বের করলাম।
আমি প্রতিদিন ওকে জিজ্ঞেস করতাম, আচ্ছা বলতো, আমি কি দেখতে সুন্দর?
মন ভালো আর সব ঠিক থাকলে কখনো কোন অবস্থাতেই ও আমাকে সুন্দর মানবে না। হাসতে হাসতে বলবে, না,তুই জঘন্য, জঘন্য এবং জঘন্য।
মন খারাপ থাকলে বলবে, হু।‌
তখন আমার বুকের ভেতর রীতিমতো কাঁপতে থাকে, আমি আবার প্রশ্ন করি, কি? আমি সুন্দর?
-হু
:তোরচেয়েও?
-হু
:ঐযে শশী, রিয়া,দিয়া ওরা বেশী সুন্দর না আমি?
-তুই
:😱😱😱 তোর কি হয়েছে?
-কিছু হয়নাই
: অবশ্যই হয়েছে দ্যাখ, জীবনে কষ্ট আসেই। কষ্টকে অতিক্রম করে যে ওপরে উঠতে পারে সেই জীবনে....
মেসেজ ব্লক দিয়ে দিল।
আমি ফোনে মেসেজ দিলাম, কষ্টকে অতিক্রম করে যে ওপরে উঠতে পারে সেই জীবনে সফল।‌
ফোন বন্ধ হয়ে গেল।
আমি ওর বফকে ফোন দিলাম, ভাইয়া! ওতো আমাকে সুন্দর মানছে!!
-কি!! ও তোমাকে সুন্দর স্বীকার করেছে?? আমি এক্ষুনি দেখছি, আবার না জানি কি করে বসে আল্লাহ!!
সময় অতিবাহিত হয়! আমি আবার মেসেজ দিই, আচ্ছা আমি কি সুন্দর!!
- হে হে! তোর মতো বান্দর আমি আমার বাপের জন্মে দেখিনাই পেত্নী!
আমি হাফ ছেড়ে বাঁচি!

Monday, January 14, 2019

এইবার হবে পিঠা গল্প এত আদর স্নেহ কিসের

পিঠা
বাঙালী সংস্কৃতির অন্যতম একটা আকর্ষণীয় জিনিস এই পিঠা। তার উপর এই পিঠা আবার খাবার জিনিস। আর খেতে তো সবারই ভালো লাগে। তাই পিঠাও সবারই প্রিয়। পিঠা খেতে ভালো লাগে না এমন কারো অকালকুষ্মান্ড চেহারা এখনো দেখিনি। 
আমারো পিঠা ভাল্লাগে।এর কারন দুইটা, প্রথমত আমি খেতে ভালোবাসি আর দ্বিতীয়ত আমার মুখখানা মোটেই অকালকুষ্মান্ডের মত না।
আমার এখন চিতই পিঠা টা ভালো লাগে। এখন ভালো লাগে বললাম কারন টা পরে বলছি। গোল,চ্যাপ্টা, একপাশ নরম আরেকপাশ একদমই হালকা পোড়া পোড়া আর কিছুটা মুচমুচে। ওই মুচমুচে দিকটা দাতের নিচে পরলেই কেমন যেনো একটা ভালোলাগা কাজ করে আমার।আর উপরের নরম দিকটা ভালো লাগে যদি কোন ভর্তা দিয়ে খাই। হ্যা, এই চিতই পিঠা আমার পছন্দ হওয়ার মূল কারন এই ভর্তা। একটা দুইটা না অনেক পদের ভর্তা দিয়ে খাওয়া যায় এই পিঠা। ঝাল ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, শরিষা ভর্তা, শুটকি ভর্তা, টমেটো ভর্তা আরো কত কি। একবার তো শুনলাম শীতকালে মিরপুরে কোথায় নাকি ৪২ পদের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা বিক্রি করেন এক পিঠা বিক্রেতা। এই তথ্য পাওয়ার পর ভাবলাম ওই পিঠা বিক্রেতার পিঠা না খাই অন্তত ৪২ পদের ভর্তা দেখার জন্যে হলেও যাওয়া উচিৎ। যথারীতি বন্ধু বান্ধবের থেকে ঠিকানা যোগাড় করে এক শীতের সন্ধ্যায় ওই দোকানের সামনে যেয়ে উপস্থিত হলাম। আর সেখানে যেয়ে একটা জিনিস বুঝলাম যে মানুষ এইখানে পিঠা খেতে আসে না,আসে ওই ৪২ পদের ভর্তা খেতে।
এই গেলো এখনকার ভালোলাগা চিতই এর কথা এবার বলবো আগের ভালোলাগা ভাপা পিঠার কথা। হ্যা আগে ছোট বেলায় আমার পছন্দের পিঠা ছিলো এই ভাপা পিঠা। গ্রামে থাকতাম, অনেক ছোট ছিলাম নার্সারী তে পড়তাম তখন। শীতের সকালে দাদী বাড়ির উঠোনে ছোট্ট মাটির চুলোয় ভাপা পিঠা বিক্রি করতেন এক বুড়ি মহিলা। উনার বানানো ভাপা পিঠা আমার জীবনে খাওয়া সবচেয়ে মজাদার ভাপা পিঠা ছিলো। চালের গুড়ার তৈরী সাদা অংশ টা ছিলো একদম নরম স্পঞ্জের মত আর ভিতরে থাকতো কুসুম গরম গলে যাওয়া খেজুরের গুর। সকালে আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য যখন তৈরী হতাম তখন ঘর থেকেই শুনতে পেতাম কেউ বলছে "ও বানু বড়মা আমার এই বাটিতি ৫ টা ধূপ্পিটে দেও দিনি,ওই সুহাগের বাপ খেইয়ে বেরবে এট্টু তাড়াতড়ি কইরে দেও" আবার কেউ বলতো "ওইদেকো শিগগি দেও দিনি পিটে গুনু আমার ছেইলের ইশকুলির যে দেরী হই যাচ্চে"। হ্যা, ওই বুড়ি মহিলার নাম ছিলো বানু বড়মা।বানু বড়মা বললাম কারন কখনো কাওকে বানু বড়মা ছাড়া অন্য কোন নামে উনাকে ডাকতে শুনিনি। ছোট বড়, ছেলে বুড়ো সবাই ই বানু বড়মা বলেই ডাকতো। আর একটা কথা আমাদের গ্রামে ভাপা পিঠাকে বলে ধূপ পিঠা। দাদীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম ভাপা পিঠাকে ধূপ পিঠা বলার কারন কি? দাদী বলেছিলেন পিঠা বানানোর পর পিঠার উপর দিয়ে যে ধোয়া সহ গরম ভাপ ওঠে মুলত ওই ধোয়ার কারনেই নাম হয়ে গেছে ধূপ পিঠা।
ক্লাস ওয়ান এ থাকাকালীন ঢাকায় চলে আসি।এর পর যখন ক্লাস এইট এ পড়ি তখন একদিন আম্মাকে বললাম ভাপা পিঠা বানিয়ে দিতে বানু বড়মার মত করে। বানু বড়মা ততদিনে খোদার প্রিয় হয়ে গেছিলেন। তাই অনেক দিন খাওয়া হয়নি উনার তৈরী সেই ভাপা পিঠা। আম্মা সেইদিন একটা একটা করে ভাপা পিঠা বানাচ্ছিলেন আর আমি তাতে কামড় দিয়ে বলছিলাম বানু বড়মার মত হয়নি এইটাও। একসময় আম্মা রান্না ঘর থেকে উঠে চলে যেতে যেতে বললেন "বানু বড়মার মত পিঠা খাওয়া লাগবে না, যা বানাইছি তাই খা"। আমার সামনে তখন সব আধ কামড়ানো ভাপা পিঠে পরে আছে আর সেইদিন আমি একটা জিনিস বুঝেছিলাম যে খাবার বানানো টা একটা আর্ট।
এখন শীতকালে প্রায়ই যখন বন্ধুদের সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পদের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাই তখন মাঝে মাঝেই চোখ চলে যায় সদ্য চুলা থেকে উঠানো গরম ধোয়া ওঠা ভাপা পিঠের উপর আর মনে পরে বানু বড়মার ধূপ্পিটের কথা।

Thursday, January 3, 2019

পাগল বলে মানুষগুলোকে অভহেলা না করে পাশে থাকুন এভাবে ||sumon iqbal, fahan...

ভালো বাসার অসাধারন গল্প ১

সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ । পলাশ বাসায় ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে ।
রুপা আজ শাড়ি পরেছে । পলাশের প্রিয় নীল রঙের শাড়ি আর খোঁপায় বেলি ফুলের মালা । রুপা প্রায়ই পলাশ বাসায় ফেরার আগে এমন শাড়ি পরে হালকা সাজগোজ করে থাকে । সংসারের শুরু থেকেই এমনটি করে আসছে । পলাশ অফিস থেকে বাসায় ফিরলে এভাবে শাড়ি পরে সেজে ওকে সারপ্রাইজ দিতে খুব ভালোবাসে রুপা । প্রথম প্রথম পলাশ চমকালেও এখন আর চমকায়না তবে মনে মনে অপেক্ষায় থাকে কবে রুপা ওমন করে সেজে দরজা খুলে দিবে আর ওর হাসি হাসি স্নিগ্ধ মুখখানি দেখে তার সারাদিনের ক্লান্তি একনিমিষে দূর হয়ে যাবে ।
আজকে কোন বিশেষ দিন না হলেও রুপা অনেক খুশী কারন আজ সে পলাশকে ওর জীবনের অন্যতম একটি খুশীর খবর দিতে যাচ্ছে ।
৬.৫০ হয়ে গেল কিন্তু পলাশ এখনও আসছেনা। রুপা একবার ভাবলো ফোন দিবে কিন্তু দিলনা । ও খুব চালাক । বেশী ফোন দিলে ঠিক বুঝে ফেলবে এদিকে রুপা কোন গোল পাকাচ্ছে । শেষমেশ ওর সারপ্রাইজের মজাটাই যাবে শেষ হয়ে ।
এই ফাঁকে রুপা ঘর গোছাতে লেগে গেল । পলাশ অনেক গোছ গাছ সবকিছুতে তাই রুপাও খেয়াল রাখে সবকিছু একটু বেশীই । এই যেমন বিছানার চাঁদর এলোমেলো থাকা ওর একদম পছন্দ না । তাই ও যখনই ওয়াশরুমে যায় রুপা চট করে বিছানার চাঁদরটা টান টান করে ফেলে।
কাজ না করলেও পলাশ আবার খুব সুন্দর গুছিয়ে কাজ করতে পারে । নতুন সংসারে আসার পর রুপা অনেক কিছু পারতো না তখন পলাশ হাতে ধরে ওকে সব শিখিয়ে দিয়েছে । কিন্তু এখন এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে দেয়না ওকে রুপা ।
একদিন দুষ্টুমি করে পলাশ বলছিলো তুমি আমাকে এত আদর যত্ন কর মাঝে মাঝে আমার নিজেকে মহারাজা মহারাজা লাগে । রুপা হাসি দিয়ে বলেছিল তুমি তো আমার মহারাজাই ।
আচ্ছা? মহারাজাদের কিন্তু অনেকগুলো বউ থাকে জানো তো ? তাহলে আমিও কিন্তু অনেকগুলো বিয়ে করবো । তবে তুমি থাকবে আমার প্রধান রানী। পলাশ হাসতে লাগলো ।
ইশ! আসছে ! আমি কিন্তু অনেক পাঁজি। আমি ছাড়া আর কোন মেয়েকে তোমার ছায়ার কাছেও আসতে দিবোনা । মেরে দিবো কিন্তু একদম ।
হা হা ! আমাকে না মেরে তুমি ওদেরকে মারবে কেন ?
তোমাকে আমি ভালোবাসিনা তোমাকে কেন কিছু করবো ছিঃ ! ওদেরকেই মেরে ভাগিয়ে দিবো ।
মুহূর্তেই যেন ঝাসি কি রানীর রুপ ধারন করে ফেললো রুপা ।
বাসে করে বাসায় ফিরতে ফিরতে পলাশ বার বার হাতের খামটার দিকে তাকাচ্ছে । ওর স্বপ্ন হাতের মুঠোয়। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছে সব ছেলেরই থাকে পলাশও তার ব্যতিক্রম নয় । ঢাকায় একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো পোষ্টে চাকরী করলেও আরও কিছু সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন ওকে পেয়ে বসেছিল । সেই স্বপ্ন এখন ওর হাতের খামটির ভেতরে । কিন্তু খবরটি সে রুপাকে কিভাবে দিবে তা ভেবে পাচ্ছেনা । খবরটি শোনার পর বেচারীর মনের অবস্থা কেমন হবে তা ভাবলেই ওর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে ।
কেন যে মেয়েটি এতো ভালোবাসে আমাকে । মাঝে মাঝে ওর আমাকে এতো বেশী ভালোবাসাটাও কেমন যেন ভারী মনে হয় । একটু কম ভালোবাসলেও তো বাঁচা যায় । এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে রুপা যদি আমাকে একটু কম ভালোবাসতো তাহলে হয়তো আমার জন্য সবকিছু সহজ হতো ।
পলাশ এবং রুপার সংসারের বয়স ৯ মাস । প্রায় ৩ বছর প্রেম করার পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় ওদের । কিন্তু তাও খুব একটা সহজ ছিলনা । রুপার পরিবার সম্পর্ক করে বিয়ের ব্যাপারে রাজী হচ্ছিলো না । কিন্তু রুপার এককথা সে পলাশ ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবেনা তা সে যে হোক না কেন । শেষ পর্যন্ত সবাইকে মানিয়ে সংসার জীবনে পা রাখতে সক্ষম হয় দুজনে । দুই পরিবারই থাকে চিটাগাং । আর ওরা দুজন পলাশের চাকরী সুত্রে ঢাকায় ।
দুই রুমের ছোট ছিমছাম একটা বাসা ওদের । রুপার খুব সখ ছিলো ওদের বাসায় বড় একটা বারান্দা থাকবে । সেখানে বেলি, জবা, গাঁদা ও গোলাপ ফুলের গাছ থাকবে আর থাকবে দুইটা বেতের চেয়ার। যখন ও বাসায় একা থাকবে তখন ওখানে বসে গল্পের বই পড়বে আর পলাশের ছুটির দিনে একসাথে বসে চা খাবে আর গল্প করবে । বাস স্টপ থেকে একটু দূরে হলেও বাসাটায় একটা বড় বারান্দা আছে তাই পলাশ এই বাসাটাই নিয়েছে শুধুমাত্র রুপার জন্য । দুজনে মিলে অনেক ঘুরে ঘুরে সংসারের সবকিছু কিনেছে । আর বারান্দার ফুলগাছগুলো সব রুপার কেনা ।
বিয়ের রাতে পলাশ রুপাকে জিজ্ঞেস করেছিল এখনতো তুমি আমার বউ । বউ হিসেবে তুমি আমার কাছে কি চাও । রুপা হেসে বলেছিল আমার যা চাওয়ার তাতো আমি পেয়েই গিয়েছি । তুমি আমাকে তোমার বউ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছ এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কিছু নেই । এখন শুধু তোমার বউ হয়ে সারাজীবন তোমাকে ভালোবাসার অধিকারটুকু চাই আর চাই চোখ বন্ধ করে তোমাকে বিশ্বাস করে তোমার উপর ভরসা করে নিশ্চিন্তে তোমার সাথে সংসার করতে । আর আমাকে খুব বেশী ভালো না বাসলেও চলবে তোমার । রুপা হেসে দিল । শুধু যতটুকু ভালোবাসলে আমি ভারমুক্ত থাকতে পারবো ততটুকু বেসো ।
পলাশ কিছু বলতে যাচ্ছিলো । রুপা ওকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললো, দেখ আজকে আর কোন কথা না । আমার যে বিশ্বাসই হচ্ছেনা আমি তোমার বউ হতে পেরেছি। এটা যে আমার কত বড় সুখ তা তুমি বুঝবেনা । আজকে আমি সারারাত তোমার বুকে মাথা রেখে চুপ করে শুয়ে থাকবো যতক্ষণ মন চায় আর আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ এই সুখটুকু অনুভব করবো । পলাশ হেসে রুপাকে তার বুকে টেনে নিলো ।
Image result for প্রেম
রুপা কেমিস্ট্রি তে মাস্টার্স করেছে । বিয়ের পর খুব ভালো একটা কোম্পানিতে ওর চাকরী হয় । কিন্তু ও বলেছিল আমি শুধুই সংসার করবো । সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমাকে নাস্তা করে দিবো, তুমি অফিস যাওয়ার সময় এটা ওটা এগিয়ে দিবো, তোমার কাপড় ধুয়ে দিবো, কাপড় গুছিয়ে রাখবো, তোমার পছন্দের খাবার রান্না করবো, ঘর গোছাবো, তুমি অফিস থেকে ফেরার সময় হলে বারান্দায় দাড়িয়ে তোমার ফেরার অপেক্ষা করবো তারপর তুমি আসলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিবো ।
এসব ভাবতে ভাবতে বাস চলে এলো গন্তব্যে । একটু হেটে বাসায় যাওয়ার আগে সামনে চায়ের দোকানে বসলো পলাশ । মানসিক ভাবে অনেক দুর্বল লাগছে ওর । একদিকে এতদিনের একটা স্বপ্ন পুরণ অন্যদিকে রুপার মলিন মুখখানি। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। প্রথমে সে এতকিছু ভাবেনি কিন্তু আজ যেন দুদিকের টানাপোড়নের যুদ্ধে ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত হচ্ছে ।
সময় যখন ৭.২০ তখন পলাশকে ফোন দিল রুপা ।
কইগো তুমি । দেরী হচ্ছে যে ?
এইতো চলে এসেছি, বাসার কাছেই ।
আচ্ছা ঠিক আছে, আসো ।
সারাদিন কাজ করতে করতে কিভাবে সময় চলে যায় বুঝেইনা কিছু রুপা কিন্তু সন্ধার পর থেকে অপেক্ষার প্রহর যেন আর শেষই হয়না । মানুষটা যখন বাসায় থাকে কোন কথাবার্তা না বলে যদি লাইট অফ করে ঘুমিয়েও থাকে তবুও কি শান্তি লাগে মনে । ঘরে গিয়ে যখন মানুষটাকে দেখে তখন নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হয়।
বিয়ের দুই তিন মাস পরের কথা । সব বন্ধুরা মিলে আরেক বন্ধুর বাসায় গেট টুগেদারের পার্টিতে একরকম জোর করে পলাশ কে রাতে রেখে দিয়েছিলো । রাতের বেলা দুঃস্বপ্ন দেখে ভয়ে ওপাশে পলাশকে ধরতে গিয়ে দেখে ও পাশে নেই তখন আরও বেশী ভয় পেয়ে গিয়েছিলো রুপা । তারপর সারারাত লাইট অন করে ঘুমিয়েছিল ।
পরেরদিন বাসায় ফিরলে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলেছিল তুমি আর কখনও আমাকে ছেড়ে রাতের বেলা বাইরে থাকবেনা । পলাশ রুপাকে কাছে টেনে নিয়ে বার বার সরি বলছিলো আর কথা দিয়েছিলো আর কখনও ওকে একা রেখে বাইরে থাকবেনা ।
এসব ভাবতে ভাবতে কলিংবেল বেজে উঠলো । কাজের মেয়েটি দৌড়ে যাচ্ছিলো দরজা খুলতে ।
রুপা বলল তোর ভাইয়া এসেছে আমি দরজা খুলবো তুই ভেতরে যা ।
খবরটি শোনার পর পলাশের উচ্ছ্বসিত মুখখানি কল্পনা করতেই কি যে ভালো লাগছে রুপার । সামনা সামনি তা দেখার আর তর সইছেনা ।
একদিন ইউটিউবে ছোট বাচ্চাদের মজার কিছু ভিডিও দেখছিলো আর হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরছিলো পলাশ। বাচ্চারা তো আসলেই অনেক কিউট হয় । দেখ দেখ কি করছে দুষ্ট গুলো । আমাদের একটা হলেও অনেক মজা হতো ।
তখনই রুপা ভেবেছিলো পলাশকে একটি লিটল এঞ্জেল উপহার দিবে । যার সাথে ও খেলবে দুষ্টুমি করবে ।
পলাশ ঘরে ঢুকল একদম মনমরা হয়ে । ও ভেবেছে কোনরকম ভুমিকা না করে রুপার হাতেই চিঠিটা দিয়ে দিবে । রুপা এত বেশী আনন্দিত যে পলাশের মনমরা চেহারা খেয়ালই করলো না ।
পলাশ দেখলো টেবিলের উপর একটা কেক, কিছু মোমবাতি আর একগুচ্ছ ফুল ।
আজকে কি কোন বিশেষ দিন ? মানে কোন জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী এমন কিছু ?
রুপা হেসে দিয়ে বললো তুমি যেদিন আমার জীবনে এসেছো তারপর থেকে প্রতিটি দিনই আমার জন্য বিশেষ । যাওতো তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসো । তোমার জন্য একটি সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে ।
আমি আজ তোমাকে যে সারপ্রাইজ দিতে যাচ্ছি তার চেয়ে বড় আর কি সারপ্রাইজ হতে পারে ? পলাশ ভেতরে যেতে যেতে মনে মনে বললো ।
ফ্রেশ হয়ে পলাশ ডাইনিং রুমে গেলো । হাতে চিঠিটা । এই চিঠিটার ভার সে আর নিতে পারছেনা । রুপা কিছু বলার আগেই তার হাতে চিঠিটা দিল পলাশ ।
কি এটা ?
একটা লেটার । খুলে দেখো ।
রুপা চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলো । মুহূর্তের মধ্যে রুপার চেহারার রঙ পাল্টে গেলো ।
Congratulation Mr Palash Ahmed. We are pleased to inform you that you have been appointed for the position of a Branch Manager for Singapore Branch.
রুপা চিঠিটা পড়তে পড়তে পলাশ কেকের প্যাকেটটা খুলে হতভম্ব হয়ে গেলো ।
Congratulation Love. You are going to be a father.
দুজন দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইলো । দুজনই কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা ।
রাতের খাবার খেয়ে দুজনে বারান্দার মেঝেতে হেলান দিয়ে বসেছে ।
রুপাই শুরু করলো কথা ।
তুমি যে ওখানে অ্যাপ্লিকেশন করেছো আমাকে বলোনি কেন আগে ?
আসলে তখন সিনিয়ররা সবাই করছিলো তাই আমিও করে দিয়েছিলাম । যদিও চাইছিলাম হোক কিন্তু এত বাঘা বাঘা মানুষের মাঝে আমারই যে হয়ে যাবে তা বুঝিনি আর তখন এত কিছু ভাবিওনি । তুমিও তো আমাকে কিছু বলোনি ।
আমি তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম ।
তারপর দুজনেই চুপ ।
অন্ধকারে পলাশ রুপার মুখটা দেখতে পাচ্ছেনা কিন্তু বুঝতে পারছে ও কাঁদছে ।
পলাশ কিছুক্ষণ ভেবে যা ডিসিশন নেওয়ার নিয়ে ফেললো । এই মেয়েটি, তার ভালোবাসা, তাদের অনাগত সন্তান, ওদের এই খুনসুটির সংসার এসব ফেলে ও কোথাও যাবেনা । এর চেয়ে বড় পাওয়া বড় অর্জন জীবনে আর কি হতে পারে ।
পলাশ একটানে রুপাকে কাছে নিয়ে আসলো ।
আচ্ছা , তুমি আমাকে ভালোবাসোতো ?
রুপা অভিমান করে ঠোঁট বাকিয়ে বললো, না ।
যাহ বাবা, যে কিনা আমাকে ভালোই বাসেনা তার জন্য আমার সিঙ্গাপুরের চাকরী না করে দিয়ে কি লাভ? ভালোবাসলে না হয় একটু ভেবে দেখা যেতো ।
রুপা খুশীতে বোকার মতো আরও বেশী করে কেঁদে উঠলো । আর পলাশ উঠলো হেসে ।
পলাশ বলল , আমাদের ছেলে হলে ভালো হয় না মেয়ে ?
আমার ছেলে পছন্দ রুপা বললো
আল্লাহ যা দেয় আলহামদুলিল্লাহ শুধু তোমার মতো গাধী না হলেই হলো ।
কি আমি গাধী ? তোমার মতো দুষ্টু হলে একটা পিট্টি দিবো ওকে ।
এই খবরদার। আমার বাবুর গায়ে হাত তোলা যাবেনা কিন্তু ।
ইশ তোমার একার নাকি আমারও ।
আমি কিন্তু ওকে স্কুলে পড়াবোনা । নিজে পড়াবো আর ধর্মীয় শিক্ষা দিবো । তবে তোমার কাছে ওকে পড়তে দেওয়া যাবেনা । তুমি যে বোকা কি পড়াতে কি পড়াবে, কি ভুল পড়াবে, পলাশ দুষ্টুমি করতে করতে বললো ।
আচ্ছা! তাই বুঝি ? আমি বোকা ? তোমার বাবু তুমি যেভাবে খুশী সেভাবে বড় করো । আমি আমার সংসার নিয়েই থাকবো ।
এমন হাজারো দুষ্টু আর মিষ্টি কথায় ওদের খুনসুটি চলতে লাগলো আর চলতে লাগলো ওদের খুনসুটির সংসার ।
কি ভাবে সুটিং করে দেখে নিনঃ লিঙ্ক 

Sunday, December 30, 2018

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে) পর্বঃ০৭ (সমাপ্ত পর্ব)

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
পর্বঃ০৭ (সমাপ্ত পর্ব)
আমি আর আমার কাজিন আপুর শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে আজকে আর বাইরের গেইট টাতে তালা ঝুলতে দেখিনি। আমরা ধাক্কা দিয়ে গেইট খুলে ভেতরে প্রবেশ করি। ভেতরে ঢুকে দেখলাম বারান্দায় যেই গেইটটা আছে ঐ গেইটেটা ভেতর থেকে লক করা। কিন্তু আমরা কোন মানুষ দেখতে পাই নি। কিন্তু এতোটুকু বুঝতে পারি রুমের ভেতরে মানুষ আছে। কারণ রুমে লাইট জ্বলছিলো এবং ভেতর থেকে টিভির আওয়াজ আসছিলো। তখন আমরা গেইটে নক করি কয়েকবার জোরে জোরে নক করি। কিন্তু কেউ এসে গেইট খুলছিলো না। অবন্তী আপু বলে কয়েকবার ডাক দিলে কান খাড়া করলে শুনতে পেলাম আপু বলছে প্লিজ দরজাটা খুলতে দাও আমার ভাই এসছে মনে হচ্ছে । কিন্তু ঐ পাষান লোকটি আপুকে আসতে দিচ্ছিলো না। আমরা গেইটের বাইরে থেকে আপুর স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলি "তোর খবর আছে,বাড়ি গিয়ে তোর বারোটা বাজাবো"। তাও সে বাইরে আসে নি। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর আমরা বাড়ি ফিরে এসে সবাইকে সবকিছু খুলে বলি।
তখন সিদ্ধান্ত হয় আপুর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং আপুকে ঐ বাড়ি থেকে চিরদিনের জন্য নিয়ে আসা হবে। ঐ দিন রাতেই আপুর ফোন আসে আপুর স্বামী তখন বাড়ি ছিলো না দেখে আপু আপুর শ্বাশুড়ির ফোন নিয়ে ফোন করে। মা বললো তোর বাবা এসে তোকে কাল ই নিয়ে আসবে। তখন আপু মাকে বাবাকে পাঠানোর জন্য নিষেধ করে। কারন আপু বলতেছিলো যেহেতু আসছি আর কিছুদিন থেকে দেখি তার কোন পরিবর্তন হয় কি না। পরিবর্তন না হলে আমি তোমাদেরকে বলবো তখন তোমরা এসে আমাকে নিয়ে যেও। আপু ঐদিন ফোনে অনেক কান্না করে এই জন্য যে আমি আপুর ভাই আপুর শ্বশুরবাড়ি গেলাম আর আপু আমার বোন হয়ে আমাকে দেখার আমাকে ভেতরে গিয়ে বসতে বলার সামর্থ্যটুকুও আপুর হয় নি.......
তার পর কেটে যায় ১৫ দিন এই ১৫ দিনে আপু একবার ফোন করে বলেছিলো আগের চেয়ে কিছুটা ভালো আছে। ১৫ দিন পর আপু ফোন করে বলে আপু আর থাকতে পারছে না এবং বাবাকে পাঠানোর জন্য।
পরদিন ভাইয়া বাবা আরো কয়েকজন এবং আমার একজন খালাতো ভাই সে ছিলো সাংবাদিক এই কয়জন মিলে আপুর শ্বশুরবাড়ি যায়। তাদের দেখে আমার গুণবান খুব দুলাভাই রেগে যায়। উল্টাপাল্টা বলা শুরু করলে আপুর শ্বশুর তাকে থাপ্পড় দিয়ে চুপ করায়। তখন সবার সামনে আপুকে এবং তার স্বামী এবং শ্বশুর শ্বাশুড়িকে ডাকা হয়। তখন আপুর স্বামীকে জিগ্যেস করা হয়ে আপুকে দ্বিতীয়বার আনার সময় তাকে যেই নিয়মগুলি দেয়া হয় ঐ নিয়মগুলি কি সে পালন করেছে কি না?
তখন সে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তার বাবা মা এবং উপস্থিত সবার সামনেই আমার বাবার পায়ে ধরে মাফ চাওয়া শুরু করে। বাবা তাকে পা থেকে সরিয়ে দেয়। তখন আপুকে জিগ্যেস করা হয় সে কি আর এই বাড়িতে থাকবে কি না? আপু উত্তর দেয় না। তখন আবার আবির ভাই(আপুর স্বামী) আপুর পায়ে ধরে মাফ চাওয়া শুরু করে। আপু তাকে জোর করে পা থেকে সরিয়ে দাঁড় করায়।
ঐ দিন ই আপু ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে আবির ভাইকে ডিভোর্স দিয়ে চলে আসে এবং সে যেনো আর কখনো আপুকে ডিস্টার্ব না করার জন্য বলা হয়। আমার সাংবাদিক ভাই তাকে বলে আসে যদি কখনো আপুকে ডিস্টার্ব করে তাহলে তার সকল অত্যাচার এর বর্ণনা তার ছবিসহ পত্রিকায় ছাপানো হবে।
তারপর আপুকে বাড়ি নিয়ে আসা হয় প্রথম প্রথম আপু বেশিরভাগ সময় কান্না করতো। আমার আপু অনেক চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলো। বেশিরভাগ সময় একা একা থাকতো। আর আপুর স্বপ্ন ছিলো বিসিএস ক্যাডার হবে। বিসিএস এর বই কিনে পড়াও শুরু করে দিয়েছিলো। কিন্তু আবির ভাই এর সাথে যখন আপুর বিয়ে হয় তখন আপু অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিলো এবং বিসিএস এর প্রিপারেশন নেয়া শুরু করেছিলো। কিন্তু একজন ভুল মানুষের হাত ধরার পরিণতি স্বরুপ আপুর জীবনে এতো কিছু হয়ে যায়। বিয়ের পর আপুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এমনকি আপুর অনেক কাগজপত্রও আপুর স্বামী পুড়িয়ে দিয়েছিলো।
আপু এখন আবার মাস্টার্সে ভর্তি হবার চিন্তাভাবনা করছে পাশাপাশি ভাইয়ার পরিচিত একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জবে ঢুকেছে। এখন আলহামদুলিল্লাহ আপু ভালো আছে। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেছে।
তারপর থেকে আবির ভাইও আপুকে তেমন একটা বিরক্ত করে নি। আপু এখন খুব ধার্মিক হয়েছে সবসময় মুখে আল্লাহর নাম থাকে নিয়মিত নামাজ পড়ে। এককথায় এখন থেকে আপুর নতুন জীবন শুরু হয়.....
(সমাপ্ত)

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে) পর্বঃ০৬

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
পর্বঃ০৬
বাইরে বের হয়ে দেখি আবির ভাই(আপুর স্বামী) উঠোনে দাড়িয়ে অবন্তী অবন্তী বলে ডাকছে। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিলো সে এইমাত্র নেশা করে আসছে। আমি আর মা বাইরে বের হলে সে দৌড়ে এসে মায়ের উপর পড়ে। মায়ের পা ধরে সে বলতে থাকে আম্মা আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমার ভুল হয়ে গেছে।অবন্তী কোথায়? আমি অবন্তীকে নিয়ে যেতে চাই। মা বারবার চেষ্টা করেও তাকে পা থেকে ছাড়াতে পারছিলো না। তখন আমি টেনে তাকে দাঁড় করাই এবং তাকে চলে যেতে বলি। তখন সে আমার পায়েও ধরতে গেলে আমি সড়ে দাঁড়াই। আমি তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে রাস্তায় উঠিয়ে দিয়ে আসি। একটুপর দেখি সে আবার এসে হাজির। এইবার সে ডাইরেক্ট আমার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লে আমি বাবা আর ভাইয়াকে ফোন দিয়ে বাড়ি আসতে বলি। বাবা আসলে সে বাবাকে দেখে বাবার পা ধরে মাটিতে শুয়ে চিৎকার করতে থাকে এবং ক্ষমা চাইতে থাকে।
তখন ভাইয়া আসলে আমি আর ভাইয়া তাকে ধরে দাঁড় করাই। তখন ভাইয়া আর বাবা তাকে স্পষ্ট বলে দেয় আর কখনো যেনো সে আমাদের বাড়িতে না আসে এবং আপু তার সংসার করবে না এবং ডিভোর্স লেটার এই কয়দিনের ভেতরেই তার বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে। তখন সে আবার চিৎকার শুরু করে আর অবন্তী অবন্তী বলে ডাকতে শুরু করে। আর বলে আমার অবন্তী আমার এই কষ্ট দেখলে সহ্য করতে পারবে না। একবার শুধু আমার সাথে অবন্তীকে দেখা করতে দিন। আপু তখনো পাশের বাসার চাচীর রুমেই আছে। আপু তখনো জানতো না আবির ভাই আসছে। আর আমার এক পিচ্ছি কাজিনকে দিয়ে চাচীর কাছে খবর পাঠিয়েছিলাম নানান কথা বলে আপুকে যেনো চাচী আটকে রাখে এখন বাড়িতে আসতে না দেয়।কারন আপু এসে তাকে দেখলে আর তার এই কান্নাকাটি দেখলে আপুর মন গলে যেতে পারে।
ভাইয়া তখন আপুর স্বামীকে মারতে গেলে বাবা বাধা দেয়। তখন ভাইয়া তার ঘাড় ধরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর আর কয়দিন সে আসার সাহস পায় নি।
তার এক সপ্তাহ পরে এক বিকেলে সে আর তার মা হাতে একটা মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আমাদের বাড়ি এসে হাজির। ঐদিন আপুও তাদেরকে দেখতে পায়।কারন আপু তখন রুমেও বসা ছিলো। আপু তাদেরকে দেখে না দেখার ভান করে অন্যদিকে চলে যায়। আপুর শ্বাশুড়ি এসে মিষ্টির প্যাকেটটা মায়ের হাতে দিলে মা তা রাখেনি তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেয়। তখন আপুর শ্বাশুড়িও আমার মায়ের হাতে পায়ে ধরার অবস্থা। মা এককথা বলে দেয় আমার মেয়ে আপনার ছেলের সংসার করবে না। তাই দয়া করে আপনারা চলে যান এবং আর কখনো আসবেন না। কিন্তু আপুর স্বামী তখনো পাগলামো করার চেষ্টা করলে ভাইয়া আর বাবা বাড়ি না থাকায় আমরা কাজিনরা মিলে তাদেরকে বাড়ির বাইরে দিয়ে আসি। তারা ঐদিনের মতো চলে যায়।
তার দুইদিন পর আপুর স্বামী আবার আমাদের বাড়ি আসে। ঐদিন তাকে দেখে ভাইয়ার মাথা গরম হয়ে যায় এবং তাকে মারতে যায়। কয়েকটা থাপ্পড় লাগিয়েও দেয়। তখন আপু এটা দেখে দৌড়ে এসে ভাইয়াকে সরিয়ে দিয়ে আপু বলে উঠে"আমি নিষেধ করছি তাকে তোমরা কিছু করবে না। তাও তার গায়ে কেনো হাত তুললা? আমি এখন তার সাথে চলে যাবো।আমি তার সংসারই করবো"
আপুর কথা শুনে তো ভাইয়ার মেজাজ আরো গরম হয়ে যায়। ভাইয়া তখন আপুকেও একটা থাপ্পড় মারলে মা এসে আপুকে নিয়ে যায়।তখন আপুর স্বামীকে ঐ দিনের মতো ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। যা দেখে আপুও ক্ষেপে যায় এবংআপু সিদ্ধান্ত নেয় আপু আবার তার কাছেই চলে যাবে।
ভাইয়া আপুকে এটাও বলে তুই যদি আবার ঐ বাড়িতে যাস তাহলে তোর সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। তুই আমার বোন না!
বাবাও আপুকে অনেক শাসায়। কিন্তু আপু তখন কারো কথা শুনতেছে না। তার এককথা সে চলেই যাবে। আর হ্যা আপুকে অনেকবার বলা হয়েছিলো ডিভোর্স দেয়ার জন্য কিন্তু আপু ইচ্ছে করেই দেরি করতেছিলো। আজ না কাল বলে এতোদিন দেরি করিয়ে এখন বলছে সে আবার এই স্বামীর সংসার করবে।
আপু কারো কথা শুনছে না দেখে বাবা আর মা ভাইয়াকে বলে কি আর করবো সে যখন যেতে চাচ্ছে আর তার স্বামীও তাকে নিতে চাচ্ছে। তাহলে তার শ্বশুর শ্বাশুড়িকে ডেকে কথা বলে তাকে আবার পাঠিয়ে দেই। ভাইয়া তখন রেগে গিয়ে সবার সামনেই আপুর উদ্দেশ্য বলে "শুনে রাখ আজ থেকে আমার আর কোন বোন নেই। তুই অবন্তী আজ থেকে আর আমার বোন না" বলেই ভাইয়া বেরিয়ে যায়।
তখন আপু অনেক কান্না করে কিন্তু তাও আপু বলে যে সে আবার শ্বশুর বাড়ি ই চলে যাবে। এই স্বামীর সংসারই করবে। তখন বাবা আপুর শ্বশুরকে ফোন করে আসতে বললে আপুর শ্বশুর শ্বাশুড়ি আপুর স্বামী সবাই আসলে গ্রামের আরো কয়েকজন মুরব্বিকে ডাকা হয়। সবাই মিলে একসাথে বসে আপুর স্বামীকে কিছু নিয়মকানুন দেয়া হয় এবং বলা এই নিয়মগুলো মেনে যদি সে চলতে পারে তাহলে সে আপুকে নিতে পারবে। আর নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে অকপটেই বলে ফেলে সব নিয়ম মানতে সে রাজি। আর নিয়মগুলো ছিলো এমনঃ
★আপুকে ফোন ব্যবহার করতে দিতে হবে। আপুর নিজস্ব মোবাইল থাকবে।
★আপুর যখন ইচ্ছে আপু তখনই আমাদেরকে ফোন করতে পারবে। কোন বাধা দেয়া যাবে না.....
★নিয়মিত তাকে শ্বশুরবাড়ি আসতে হবে যখন আপুর মন চাইবে তখনই...
এমন কতকগুলো নিয়ম দেয়া হয় আপুর স্বামী নিয়ম মেনেই আপুকে আবার নিয়ে যায়।
আপুকে আবার নিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রথম কয়েকদিন আপুকে তারা খুব ভালো রাখে। নিয়মিত আমাদের সাথে যোগযোগ করতো এবং আপুকে ফোন কিনে দেয়। সপ্তাহে তিনদিনে একবার আপুকে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসতো। আপুকেও তখন খুব হাসিখুশি দেখা যায়। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছিলো আপুর আবার যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিলো না।
তার কয়েকদিন পর দুইদিন পার হয়ে গেলেও আর আপুর কোন ফোন পাচ্ছি না। আপুকে ফোন দিচ্ছি কিন্তু আপুর ফোন সুইচ অফ তার স্বামীর ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করছে না। আপুর শ্বশুর শ্বাশুড়িকে ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করে বলে তারা এখন বাড়িতে নেই। তারা এখন রাঙামাটি আর আপুরা নাকি ভালো আছে। আপুর ফোন সুইচ অফের কথা জিগ্যেস করলে তারা তা এড়িয়ে যায়।
তার পরদিন আমি আর আমার এক কাজিন মিলে আপুর শ্বশুরবাড়ি যাই......
চলবে.......

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে) পর্বঃ০৫

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
পর্বঃ০৫
তারপর তিনদিনের দিন রাতে হঠাৎ মায়ের ফোনে আপুর স্বামীর ফোন আসে। মা ফোনটা রিসিভ করলে আপুর স্বামী মা কে সালাম দিয়ে নরম গলায় বলে যে সন্ধ্যার পর থেকে আপুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন মা গরম হয়ে গিয়ে তাকে বলে আমি এতো কিছু জানি না আমার মেয়ের যদি কিছু হয় তাহলে তোমার খবর আছে। বাবাও তখন আপুর স্বামীকে ধমকায় এবং আপুর সন্ধান চায়। একটুপর আপুর শ্বশুর বাবার ফোনে ফোন দিয়ে বলে ভাই তোমার মেয়েকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সন্ধায় আবির বাচ্চাদের পড়াচ্ছিলো পড়ানো শেষ করে রুমে গিয়ে দেখে অবন্তী রুমে নেই। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাবা খুব সহজে রাগেন না তখন বাবা প্রচন্ড রেগে গিয়ে আপুর শ্বশুরকে বলেন "তোমার ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে বাড়ি ছাড়ছে। আমি এতোদিন শুধু মেয়ের নিষেধের কারনে কিছু বলিনি। এখন যদি আমার মেয়ের কিছু হয় তাহলে তোমাদের খবর আছে".....
আমি ভাইয়াকে ফোন দিয়ে এই সংবাদ জানানোর পর ভাইয়াও আপুর স্বামীকে থ্রেট করে। বিয়ের আগে থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই প্রথম আপুর স্বামীর সাথে ভাইয়ার কথা হয়।
এইদিকে আমরা সবাই টেনশন করতেছি কারন আপুর স্বামী ফোন দেয়ার পর থেকে একঘন্টার বেশি হয়ে গেছে। এখনো আপুর কোন খোঁজ পেলাম না। যতো আত্মীয়স্বজন আছে সবাইকে ফোন দিলাম। কিন্তু আপু কারো বাসায় যায় নি। এমনি মায়ের ফোনে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে। তা রিসিভ করে জানতে পারি আপু এখন রুপা আপুর বাসায় যাচ্ছে। আর কোন একটা দোকান থেকে মাকে কল করেছে এবং আপাতত আপু কয়েকটাদিন রুপা আপুর বাসায় থাকবে। আর হ্যা রুপা আপুর বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো এবং তার একটা ছোট ছেলেও আছে। আপুর ফোন পেয়ে আমরা কিছুটা চিন্তামুক্ত হলাম। ঐ দিকে আপুর শ্বশুরবাড়ি থেকে বারবার ফোন আসতেছে আমরা আপুর কোন খোঁজ পেয়েছি কি না তা জানার জন্য। কিন্তু আমরা যে আপুর খোঁজ পেয়েছি তা তাদেরকে না জানিয়ে উল্টো তাদেরকে প্রেশারে রাখি এবং বলি যে করেই হোক আপুকে ওরা খুঁজে বের করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসতে।
রাত প্রায় এগারোটার সময় রুপা আপু ফোন দিয়ে বলে টেনশন করা লাগবে না আপু ঠিকমতোই বাসায় পৌঁছেছে। এভাবে কাটে চারদিন আর এই চারদিনে কমপক্ষে কয়েকশত বার আপুর শ্বশুরবাড়ি থেকে আপুর খোঁজ জানার জন্য ফোন আসে। কিন্তু আমরা প্রত্যেকবারই বলে দিছি না আমরা আপুর কোন খোঁজ জানি না। আর আমরা খুঁজতেছি কিন্তু খুঁজে পাচ্ছি না আপনারা যেভাবেই হোক আপুকে খোঁজে বের করে আমাদের কাছে নিয়ে আসবেন।
চারদিন পর বাবা রুপা আপুর বাসায় গিয়ে আপুকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। আপুকে দেখে মা হাউমাউ করে কান্না করে দেয়। কারন আপুর এতো সুন্দর মায়াবী চেহারার এখন কি অবস্থা হয়েছে।
আপুর মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে এবং শরীর অনেক শুকিয়ে অবস্থা খারাপ। মনে হচ্ছে যেনো আপু এইমাত্র কোন কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে। আর আপুর শ্বশুরবাড়ি আপুর জন্য কারাগারের থেকে আরো বেশি যন্থনাদায়ক ছিলো।
আপু বাড়ি আসলে আপুর মুখে শুনতে পারি আপুর উপর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনাঃ- আপুকে একদম অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছিলো। কারো সাথে কোন যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি এবং আপুকে বলা হয়েছিলো যে আপু বাবার বাড়ির কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখতে পারবেনা। আপু এর কারণ জিগ্যেস করলে আপুর স্বামী নাকি বলেছিলো এটা আমার নিষেধ তাই পারবিনা। আর হ্যা আপুকে তুই তুকারী করতো। আর আপুর ফোনটা সে ভেঙে ফেলেছিলো আর সিমটা পানিতে ফেলে দিয়েছিলো। আপুকে সে মারধর ও করেছিলো একদিন রাতে নাকি আপুকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরেও ফেলতে চেয়েছিলো!!তখন আপুর শ্বশুর এসে আপুকে বাঁচায়।
আপু কথাগুলো বলার সময় খেয়াল করছিলাম আপুর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে গাল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তেছিলো।
আপু আবির ভাইকে(আপুর স্বামী) অনেক বেশি ভালোবাসতো। আমরা আপুর স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে আপু তাও করতে দেয় নি। আর এই কয়দিনের প্রতিদিনই আপুর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন আসতো। আপু বাড়ি আসার পরেরদিন আপু মাকে ডেকে বলে আপু যে বাড়ি আসছে এটা তার স্বামীকে বলে দেওয়ার জন্য।
বাবা মা ভাইয়া সবাই বলছে যে না তাকে আমরা প্রেশারে রাখবো কিন্তু আপুর অনুরোধে বলে দেয়া হয় আপু আমাদের বাড়িতেই আছে। আপুর স্বামীকে তার সাথে সাথে এটাও বলে দেয়া হয় যে কখনো যেনো সে এবং তার পরিবারের কেউ আমাদের কাউকে ফোন না দেয় এবং আপু আর তার সংসার করছে না এটাও তাকে বলে দেয়া হয়। আর তাকে এটাও বলে দেয়া তার কাছে খুব শীঘ্রই ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়া হবে।
তারপর থেকে শুরু হয় আপুর স্বামীর কান্নাকাটি সে বারবার ফোন দিতে থাকে মা একবার ফোন ধরলে সে ফোনেই মার হাতে পায়ে ধরা শুরু করে এবং বারবার মায়ের ফোনে মেসেজ করতে থাকে। আর মেসেজগুলো সে আপুর উদ্দেশ্যে লিখে। যদিও এই মেসেজগুলোর একটা মেসেজও আপুকে পড়তে দেয়া হয় নি। ভাইয়া তাকে ফোন দিয়ে আমাদেরকে আর ফোন না দেয়ার জন্য অনুরোধ ও করে।কিন্তু কে শোনে কার কথা সে বারবার ফোন এবং মেসেজ করতেই থাকে। অবশেষে বিরক্ত হয়ে তাকে ব্লক করে দেয়া হয়। তাকে ব্লক করে দেয়ার পর সে আপুর শ্বাশুড়ির নাম্বার দিয়ে বিরক্ত করা শুরু করে। তখন বাধ্য হয়ে আপু শ্বাশুড়িকেও ব্লক করা হয়। আর হ্যা এর মাঝে আপুর শ্বশুর কয়েকবার ফোন করে বাবার কাছে ক্ষমা চায় এবং আপুকে ফেরত নিতে চাইলে বাবা তাকে না বলে দেয়া হয়।
প্রথম কয়েকদিন আপুর হাতে কোন ফোন দেয়া হয় নি এক সপ্তাহ পরে ভাইয়া একটা নতুন সিম আর একটা ফোন কিনে আপুকে দেয়। আপুর হাতে ফোন দিয়ে আপুকে শর্ত দেয়া হয় আপু আত্মীয় স্বজন ছাড়া আর কাউকে ফোন দিতে পারবে না। আপুর হাতে ফোন দেয়ার দুইদিন পরে আপুর স্বামী অন্য একটা নাম্বার দিয়ে মায়ের ফোনে অনেক অনেক মেসেজ করে এবং সে মেসেজে এটাও লিখে"অবন্তী আমি তোমাকে না পেলে বাঁচবো না,আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডে। মরার আগে একটিবার তোমার মুখ দেখতে চাই " আর এই মেসেজ টা কি করে যেনো আপু দেখে ফেলে। এই মেসেজ দেখার পর আপুর মন হালকা নরম হয়ে গেলে আপু সবার অগোচরে আবির ভাইকে মেসেজ করা শুরু করে। আর আপু যে আবির ভাইকে মেসেজ করতো আমরা কেউ সেটা জানতাম না। যদিও পড়ে জানতে পারছি। তার দুইদিন পর এক দুপুরবেলা আমি আর মা রুমে বসে আছি আর আপু তখন পাশের বাসার চাচীর রুমে ছিলো ঠিক তখন হঠাৎ শুনতে পেলাম কে যেনো বাইরে উঠানে দাড়িয়ে খুব করুণ সুরে অবন্তী অবন্তী বলে ডাকছে। ডাক শুনে আমি আর মা দৌড়ে বাইরে বের হই.....
চলবে....