Sunday, December 30, 2018

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে) পর্বঃ০৬

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
পর্বঃ০৬
বাইরে বের হয়ে দেখি আবির ভাই(আপুর স্বামী) উঠোনে দাড়িয়ে অবন্তী অবন্তী বলে ডাকছে। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিলো সে এইমাত্র নেশা করে আসছে। আমি আর মা বাইরে বের হলে সে দৌড়ে এসে মায়ের উপর পড়ে। মায়ের পা ধরে সে বলতে থাকে আম্মা আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমার ভুল হয়ে গেছে।অবন্তী কোথায়? আমি অবন্তীকে নিয়ে যেতে চাই। মা বারবার চেষ্টা করেও তাকে পা থেকে ছাড়াতে পারছিলো না। তখন আমি টেনে তাকে দাঁড় করাই এবং তাকে চলে যেতে বলি। তখন সে আমার পায়েও ধরতে গেলে আমি সড়ে দাঁড়াই। আমি তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে রাস্তায় উঠিয়ে দিয়ে আসি। একটুপর দেখি সে আবার এসে হাজির। এইবার সে ডাইরেক্ট আমার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লে আমি বাবা আর ভাইয়াকে ফোন দিয়ে বাড়ি আসতে বলি। বাবা আসলে সে বাবাকে দেখে বাবার পা ধরে মাটিতে শুয়ে চিৎকার করতে থাকে এবং ক্ষমা চাইতে থাকে।
তখন ভাইয়া আসলে আমি আর ভাইয়া তাকে ধরে দাঁড় করাই। তখন ভাইয়া আর বাবা তাকে স্পষ্ট বলে দেয় আর কখনো যেনো সে আমাদের বাড়িতে না আসে এবং আপু তার সংসার করবে না এবং ডিভোর্স লেটার এই কয়দিনের ভেতরেই তার বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে। তখন সে আবার চিৎকার শুরু করে আর অবন্তী অবন্তী বলে ডাকতে শুরু করে। আর বলে আমার অবন্তী আমার এই কষ্ট দেখলে সহ্য করতে পারবে না। একবার শুধু আমার সাথে অবন্তীকে দেখা করতে দিন। আপু তখনো পাশের বাসার চাচীর রুমেই আছে। আপু তখনো জানতো না আবির ভাই আসছে। আর আমার এক পিচ্ছি কাজিনকে দিয়ে চাচীর কাছে খবর পাঠিয়েছিলাম নানান কথা বলে আপুকে যেনো চাচী আটকে রাখে এখন বাড়িতে আসতে না দেয়।কারন আপু এসে তাকে দেখলে আর তার এই কান্নাকাটি দেখলে আপুর মন গলে যেতে পারে।
ভাইয়া তখন আপুর স্বামীকে মারতে গেলে বাবা বাধা দেয়। তখন ভাইয়া তার ঘাড় ধরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর আর কয়দিন সে আসার সাহস পায় নি।
তার এক সপ্তাহ পরে এক বিকেলে সে আর তার মা হাতে একটা মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আমাদের বাড়ি এসে হাজির। ঐদিন আপুও তাদেরকে দেখতে পায়।কারন আপু তখন রুমেও বসা ছিলো। আপু তাদেরকে দেখে না দেখার ভান করে অন্যদিকে চলে যায়। আপুর শ্বাশুড়ি এসে মিষ্টির প্যাকেটটা মায়ের হাতে দিলে মা তা রাখেনি তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেয়। তখন আপুর শ্বাশুড়িও আমার মায়ের হাতে পায়ে ধরার অবস্থা। মা এককথা বলে দেয় আমার মেয়ে আপনার ছেলের সংসার করবে না। তাই দয়া করে আপনারা চলে যান এবং আর কখনো আসবেন না। কিন্তু আপুর স্বামী তখনো পাগলামো করার চেষ্টা করলে ভাইয়া আর বাবা বাড়ি না থাকায় আমরা কাজিনরা মিলে তাদেরকে বাড়ির বাইরে দিয়ে আসি। তারা ঐদিনের মতো চলে যায়।
তার দুইদিন পর আপুর স্বামী আবার আমাদের বাড়ি আসে। ঐদিন তাকে দেখে ভাইয়ার মাথা গরম হয়ে যায় এবং তাকে মারতে যায়। কয়েকটা থাপ্পড় লাগিয়েও দেয়। তখন আপু এটা দেখে দৌড়ে এসে ভাইয়াকে সরিয়ে দিয়ে আপু বলে উঠে"আমি নিষেধ করছি তাকে তোমরা কিছু করবে না। তাও তার গায়ে কেনো হাত তুললা? আমি এখন তার সাথে চলে যাবো।আমি তার সংসারই করবো"
আপুর কথা শুনে তো ভাইয়ার মেজাজ আরো গরম হয়ে যায়। ভাইয়া তখন আপুকেও একটা থাপ্পড় মারলে মা এসে আপুকে নিয়ে যায়।তখন আপুর স্বামীকে ঐ দিনের মতো ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। যা দেখে আপুও ক্ষেপে যায় এবংআপু সিদ্ধান্ত নেয় আপু আবার তার কাছেই চলে যাবে।
ভাইয়া আপুকে এটাও বলে তুই যদি আবার ঐ বাড়িতে যাস তাহলে তোর সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। তুই আমার বোন না!
বাবাও আপুকে অনেক শাসায়। কিন্তু আপু তখন কারো কথা শুনতেছে না। তার এককথা সে চলেই যাবে। আর হ্যা আপুকে অনেকবার বলা হয়েছিলো ডিভোর্স দেয়ার জন্য কিন্তু আপু ইচ্ছে করেই দেরি করতেছিলো। আজ না কাল বলে এতোদিন দেরি করিয়ে এখন বলছে সে আবার এই স্বামীর সংসার করবে।
আপু কারো কথা শুনছে না দেখে বাবা আর মা ভাইয়াকে বলে কি আর করবো সে যখন যেতে চাচ্ছে আর তার স্বামীও তাকে নিতে চাচ্ছে। তাহলে তার শ্বশুর শ্বাশুড়িকে ডেকে কথা বলে তাকে আবার পাঠিয়ে দেই। ভাইয়া তখন রেগে গিয়ে সবার সামনেই আপুর উদ্দেশ্য বলে "শুনে রাখ আজ থেকে আমার আর কোন বোন নেই। তুই অবন্তী আজ থেকে আর আমার বোন না" বলেই ভাইয়া বেরিয়ে যায়।
তখন আপু অনেক কান্না করে কিন্তু তাও আপু বলে যে সে আবার শ্বশুর বাড়ি ই চলে যাবে। এই স্বামীর সংসারই করবে। তখন বাবা আপুর শ্বশুরকে ফোন করে আসতে বললে আপুর শ্বশুর শ্বাশুড়ি আপুর স্বামী সবাই আসলে গ্রামের আরো কয়েকজন মুরব্বিকে ডাকা হয়। সবাই মিলে একসাথে বসে আপুর স্বামীকে কিছু নিয়মকানুন দেয়া হয় এবং বলা এই নিয়মগুলো মেনে যদি সে চলতে পারে তাহলে সে আপুকে নিতে পারবে। আর নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে অকপটেই বলে ফেলে সব নিয়ম মানতে সে রাজি। আর নিয়মগুলো ছিলো এমনঃ
★আপুকে ফোন ব্যবহার করতে দিতে হবে। আপুর নিজস্ব মোবাইল থাকবে।
★আপুর যখন ইচ্ছে আপু তখনই আমাদেরকে ফোন করতে পারবে। কোন বাধা দেয়া যাবে না.....
★নিয়মিত তাকে শ্বশুরবাড়ি আসতে হবে যখন আপুর মন চাইবে তখনই...
এমন কতকগুলো নিয়ম দেয়া হয় আপুর স্বামী নিয়ম মেনেই আপুকে আবার নিয়ে যায়।
আপুকে আবার নিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রথম কয়েকদিন আপুকে তারা খুব ভালো রাখে। নিয়মিত আমাদের সাথে যোগযোগ করতো এবং আপুকে ফোন কিনে দেয়। সপ্তাহে তিনদিনে একবার আপুকে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসতো। আপুকেও তখন খুব হাসিখুশি দেখা যায়। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছিলো আপুর আবার যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিলো না।
তার কয়েকদিন পর দুইদিন পার হয়ে গেলেও আর আপুর কোন ফোন পাচ্ছি না। আপুকে ফোন দিচ্ছি কিন্তু আপুর ফোন সুইচ অফ তার স্বামীর ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করছে না। আপুর শ্বশুর শ্বাশুড়িকে ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করে বলে তারা এখন বাড়িতে নেই। তারা এখন রাঙামাটি আর আপুরা নাকি ভালো আছে। আপুর ফোন সুইচ অফের কথা জিগ্যেস করলে তারা তা এড়িয়ে যায়।
তার পরদিন আমি আর আমার এক কাজিন মিলে আপুর শ্বশুরবাড়ি যাই......
চলবে.......

No comments:

Post a Comment