Saturday, December 29, 2018

রহিতের সাথে দেখা করব বলে তাড়াহুরো করে বাসা থেকে...

রহিতের সাথে দেখা করব বলে তাড়াহুরো করে বাসা থেকে বের হতেই মায়ের সাথে খেলাম ধাক্কা । মা কপাল ধরে ওরে মা বলে দিলো এক চিৎকার । আসলে ধাক্কাটা তো আর আস্তে লাগেনি । আমি অপরাধীর মত একমিনিট দাড়িয়ে থেকেই ভৌ দৌড় দিলাম । মা পেছন থেকে বাবার গুষ্ঠি উদ্ধার করবে এটা নতুন কিছু না । মায়ের ধারনা আমার বাবার গুষ্ঠির সবার ধাক্কা দেওয়ার ব্যামো আছে ।মায়ের বিয়ের দিন বাসায় ঢুকতেই নাকি দাদীর সাথে ধাক্কা লেগে বাবার গায়ের উপর পরে গেছিল । সেই থেকে মায়ের এমন ধারনা ।
রহিত আমার একমাত্র গুলুমুলু মানে বয়ফ্রেন্ড আর ফিউচার হাবি । গতরাতে ফোন করে বলল দেখা করতেই হবে জরুরি কথা আছে ।সকাল নয়টায় রহিতের সাথে দেখা করার কথা । এখন নয়টা দশ বাজে পৌছাতে এখনো বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট লাগবে । আমি জানি রহিত আমার আগেই আসবে । ওকে অপেক্ষা করাতে আমার বেশ ভাল লাগে । তবে এটা ওর শাস্তিও বটে । প্রেমের প্রথম দিকে একদিন আমাকে দু ঘন্টা অপেক্ষা করিয়েছিল । তার পর থেকে রহিত অপেক্ষা করে আর আমি ইচ্ছা করেই দেড়িতে আসি।
গাড়িতে বসে বোর হচ্ছিলাম । ভাবলাম ফেবুতে নিউজ ফিড ঘুরি আর রহিতের সাথে কথা বলতে বলতে যায় । তাহলে রহিতও বোর হবে না । ফোনটা বের করে ডাটা অন করতেই আমার পাশের সিটে এক আন্টি বসলেন । বসার আগেই কেমন করে তাকালেন । আমি ওদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ফেবুতে নিউজ ফিড ট্রল করতে লাগলাম । রহিত অনলাইনেই ছিল ওকেও নক করলাম । মশাই আমার অপেক্ষা করছেন । ওর সাথে কথা বলছি আর কি একটা বিষয় নিয়ে মিটিমিটি হাসছি । হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পাশে বসা আন্টিটা রাগে কিটমিট করে তাকিয়ে আছেন । নিজেই আগ বাড়িয়ে বললাম , আন্টি কোনো সমস্যা ?
উনি রাগি লুক নিয়ে জিগালেন আমি কি করি , কোথায় পড়ালেখা , কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদি ইত্যাদি ।
যখন বললাম বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি তখনই ওনার আসল রুপ দেখতে পেলাম ।
উনার বক্তব্য ,' আজকালকার মাইয়ারা বেটাছেলের সাথে কথা কইতেও একবার ভাবে না । একসাথে উঠাবসা করতেও কোনো কিছু মনেই করে না । আর পাইছে এক ফোন ..সারাক্ষন তার মধ্যে মুখ গুইজা বইয়া থাকে ..রাস্তা ঘাটে গুরুজনদের তোয়াক্কা তো করেইনা উল্টা প্রেমিকের গায়ের উপ্রে ঢইলা পরে এদের পরিবারের কি শিক্ষা হুহ ' এক নিঃশ্বাসে বলে মুখ সিটকিয়ে মুখ ঘুড়িয়ে নিলো ।
এমনিতে দেড়ি হয়ে গেছে তার উপর উনার এমন কথা শুনে মেজাজ পুরাই টুট টুট উফফ !!!
এদিকে রহিত হাজার বার করে জিগাচ্ছে আর কতক্ষন আর কতক্ষন ? ধুর !
রহিতের উপর অযথায় রাগ করে অফলাইন হয়ে গেলাম তখনি । কিছু বলতেই যাচ্ছিলাম ওই মহিলাকে কিন্তু কিছু বলার আগেই গাড়ি থেকে নেমে গেলেন । অদ্ভুত সকল আন্টিগন । যা মনে আসে তাই বলে দেয় এদের ঘরে কি কোনো ছেলে নেই যারা কোনো মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ।
যায় হোক মেজাজটা ঠিক করে গাড়ি থেকে নামলাম।
গিয়ে দেখলাম রহিত আগেই এসে পার্কের একটা ব্রেঞ্চে চুপচাপ বসে ফোনে গেমস খেলছে । পেছন থেকে গিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে দিলাম এক চিক্কুর । বেচারা ভয় পেয়ে পরে যেতে লাগছিল হি হি ।
আমার হাসি দেখে রহিত রাগে না ভয়ে তাকালো ঠিক বুঝলাম না । তবে পরিস্থিতি সামলে আনতে আমিই বললাম মহারাজ এত সকালে আমার ডাক কেন পড়ল বলেন তো । রহিত চুপ মেরে আছে তারমানে অভিমান হয়েছে এমনিতে লেইট করেছি তার উপর ভয় দেখালাম । অনেক কষ্টে মশাইয়ের রাগ ভাঙিয়ে আমাকে ডেকে পাঠানোর কারন জানতে পারলাম । উনি আমাকে সারপ্রাইজ স্বরুপ আজ ওনার আম্মিজান ওরফে আমার শাশুমার সাথে সাক্ষাত করাতে নিয়ে যাবেন ।
আমাকে আগে থেকে বললে একটু সাজুগুজু করা যেত এখন যেমন এসেছি তেমনি শাশুমার সামনে হাজির হতে হবে । উনার আম্মিজান নাকি একটু সেকেলে তবে পটাতে পারলে আর কোনো চিন্তা নেয়। তবে অনেক রাগী । রাগ সহজে হয় না আর হলে কমে না । রহিত ওর মাকে বাঘের মত ভয় পায় । আমিও ওর সাথে বাজি ধরেছি শাশুমা কে পটিয়েই ছাড়ব ।
অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ করে ভয়ে ভয়ে বাসায় ঢুকলাম । বাসায় কাজের বুয়া ছাড়া কেউ নেই । রহিতকে খুব ঝাড়লাম আম্মা নেই জেনেও আমাকে নিয়ে আসার জন্য । কাজের বুয়া আমার চেচামেচি শুনে এগিয়ে এসে বলল খালাম্মা একটু বাইরে গেছেন একটু পরই চল আসবে ।
রহিত এবার আমার উপর উল্টো ঝাড়ি দিতে লাগল ,
'কি ভাবো আমাকে হা । আমি এত বাজে যে তোমাকে ফাঁকা বাসায় নিয়ে আসব । ছিঃ ছিঃ এমন ভাবো তুমি আমাকে ? তোমাকে নিয়ে আসায় আমার ভুল হয়েছে ..কথাগুলো বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সামনে থেকে চলে গেল । ধুর আজ কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম । সকাল শুরু হলো ধাক্কা দিয়ে তারপর রাস্তায় পঁচা কথা ..এইরে সে কথা তো ভুলেই গেছিলাম । যাইহোক ওইই মহিলার কথা মনে করে আর মেজাজ বিগরাতে চায় না । এসব ভাবতে ভাবতেই কলিংবেল বেজে উঠল । কেউ আসছে না দেখ আমিই খুলে দিলাম ...খুলে যা দেখলাম মেজাজ পুরোই গরম হয়ে গেল । গাড়ির ওই মহিলা এখানে কি করছে । উনি ভূত দেখার মত আমার দিকে তাকিয়ে আছেন ।
এই যে আন্টি আপনার সমস্যা কি হুমম । গাড়িতে আজাইরা কথা শুনিয়ে আপনার স্বাধ হয়নি আবার এখানে এসেছেন । আপনার ঘরে কি কোনো ছেলে মেয়ে নেই ..তারা কি ফোন ব্যবহার করে না ? তাদের কি ছেলে বন্ধু ..মেয়ে বন্ধু নেই ? কাউকে সুযোগ পেলেই যা খুশি বলে দেন আপনারা । গাড়িতে বলে শখ মেটেনি আবার আমার পিছু ধরে আমার হবু শশুর বাড়ি চলে এসেছেন । এক নিঃশ্বাসে বলে সমস্ত রাগ ঝাড়লাম ।
উনি তবধা খেয়ে আমার পেছনে কিছু দেখছেন । তাকিয়ে দেখলাম রহিত রসগোল্লার মত চোখ করে একবার আমার দিকে আর একবার ওই মহিলার দিকে তাকাচ্ছে । আমি রেগে গিয়ে ওকে বললাম ' জানো আজ গাড়িতে উনি যা নয় তাই বলেছেন । আবার এখানেও এসেছেন আমাদের অনুসরন করে । কত বড় সাহস দেখছো ??
রহিত আমার কথা তোয়াক্কা করে আমতা আমতা করে আস্তে করে বলে উঠল ''মা তুমি কখন এলে"
বাকিটা শুনিতে চাহিয়া নিজে লজ্জা নিবেন না প্লিগ ।

নতুন নতুন গল্প পেতে আমাদের সাথেই থাকুন 
গল্পটা আপনার কাছে কেমন লাগছে সেটা কমেন্ট করে জানাবেন
ধন্যবাদ
youtube

No comments:

Post a Comment