Sunday, December 30, 2018

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে) পর্বঃ০৪

গল্পঃআপুর বিয়ে(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
পর্বঃ০৪
আমি আপুর বাড়ি থেকে আসার দুইদিন পর হঠাৎ আপু ফোন করে মাকে বলে "মা তোমরা আর কখনো আমাকে ফোন দিবে না"। আপুর কথা শুনে তো মা হতবাক এ কেমন কথা তোকে ফোন দিবো না কেনো?
-তোমরা ফোন না দিলে আমি ভালো থাকবো। তাই যদি তোমরা আমার ভালো চাও তাহলে আমাকে ফোন দিবে না।(আপু)
-এ কি বলছিস মা তুই। নিশ্চয়ই তোর কোন সমস্যা হইছে। কি হইছে বল। জামাই কি আমাদের সাথে কথা বলতে তোকে নিষেধ করছে? কোন সমস্যা হলে বল তোর বাবাকে পাঠাই(মা)
-না মা আমার কিছু হইনি আর আবির নিষেধ করবে কেনো। আমি ভালো আছি আর কখনো আমাকে ফোন দিবে না। আর শোনো আমার শ্বশুরকেও ফোন দিবে না এবং এই বিষয়ে কিছু বলবে না।আমিই তোমাকে ফোন দিয়ে খোঁজ-খবর জানাবো বলেই আপু ফোন কেটে দেয়।
আর হ্যা আমার একটা চাচাতো বোন ছিলো তার সাথে আমার আপুর খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। তার নাম ছিলো রুপা তারা দুইজনই একে অপরকে সবকিছু বলতো। আর আপুর বিয়ের পরও সবসময় রুপা আপুর সাথে আমার আপুর কথা হতো। তখন মা রুপা আপুকে ফোন দিলে জানতে পারি দুলাভাই আপুকে আমাদের কারো সাথে কথা বলতে দিবে না। এই জন্যই আপু মাকে ফোন দিয়ে আপুকে ফোন দিতে নিষেধ করে। আপুর নিষেধের কারণে আপুর শ্বশুরকেও আর এ বিষয়ে কিছু বলা হয় নি। এভাবে কেটে যায় এক সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহ আপুর চিন্তায় আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক সপ্তাহ পর একরাতে আপুর ফোন আসলে জানতে পারলাম আপু ভালো আছে। আর আমাদেরকে তার জন্য টেনশন করতে নিষেধ করে।
এইভাবে কাটে আরো পাঁচ দিন। এই পাঁচদিনে আপু একবারও ফোন দেয় নি। পাঁচদিন পর বাবা দুলাভাই এর ফোনে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে বাবাকে গালিগালাজ করে। এমনকি বাবা কে সে তুই বলেও সম্বোধন করে এবং এটাও বলে যে তুই ফোন দিয়েছিস কেনো? তোর মেয়ে না তোকে ফোন দিতে নিষেধ করেছে। তারপরও তুই ফোন দিলি কেনো?
বলে সে ফোনটা কেটে দিলে ঐদিন ভাইয়াকে সবকিছু বলা হয়। তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আপুর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
পরদিন সকালে বাবা আপুকে না জানিয়ে আপুর শ্বশুরবাড়ি যায়। বাবা বিয়ের আগে একবার আপুর শ্বশুরবাড়ি এসেছিলো বলে বাবার আসতে কোন সমস্যা হয় নি। বাবা এসে দেখে তাদের বাড়ির বাইরের গেইট টা বন্ধ এবং গেইটের ভেতর থেকে তালা লাগানো আর বাইরে থেকেও তালা লাগানো।এটা দেখে বাবার খুব অদ্ভুত লাগে কারণ ভেতর থেকেও লক আবার বাইরেও লক। বাবা তখন বুঝে উঠতে পারছিলো না যে এমনটা কি করে হয়!
বাবা কিছুক্ষন থমকে দাড়িয়ে রইলেন কিন্তু কিছুতেই বাবা বুঝে উঠতে পারছিলেন না এমনটা কোনো হবে। তখন বাবা গেইটের এক ফাক দিয়ে ভেতরটা পরখ করতে লাগলেন। তখন হঠাৎ বাবার কানে কিছু একটার আওয়াজ আসছিলো। বাবা খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করে বুঝতে পারলেন এটা টিভির আওয়াজ। ভেতরে টিভি চলছে তার মানে নিশ্চয়ই ভেতরে কোন মানুষ আছে। কিন্তু আবার পরক্ষনেই মনে হচ্ছে ভেতরে কেউ থাকলে গেইট বাইরে থেকে লক কেনো? তখন বাবার মাথায় বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। তখন বাবা তাদের বাড়ির চারপাশটাতে একটা চক্কর দিয়ে দেখতে পেলেন বাড়ির পশ্চিম দিকটাতে আর একটা গেইট আছে এবং ঐ পাশটাতে ইটের দেয়াল ছিলো আর তিনপাশে ছিলো টিনের বেড়া। আর ঐ গেইটে একটা নয় দুইটা তালা লাগানো আছে। তখন বাবা আরো থমকে গেলেন যে ঐ গেইটেও তালা ঝুলছে আবার এই গেইটে একটা নয় দুইটা তালা আবার ভেতর থেকে টিভির আওয়াজ! বাবার মনে কৌতুহল জাগছিলো তখন বাবা কয়েকবার গেইটটাতে জোরে ধাক্কা দিলেন। কিন্তু কেউ কোন সাড়া দিচ্ছিলো না দেখে বাবা কৌতূহল এর বশে অনেক কষ্টে দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেন। বাবা ভেতরে প্রবেশ করে ভারী অবাক হলেন কারণ তিনি স্পষ্ট টিভির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন অথচ বাড়ির মেইন গেইটে আরো চারটি তালা ঝুলছে!!
বাবা বারান্দার সামনে গিয়ে দেখলেন রুমের দরজা খোলা আছে এবং ভেতরে লাইট জ্বলছে। আর পর্দা টেনে দেয়া আছে বলে ভেতরে কে আছে তা বাবা এখনো বুঝতে পারছেন না। তখন বাবা গেইটে ধাক্কা দিলে বাবাকে অবাক করে দিয়ে ভেতর থেকে আপু বের হয়ে আসে।
বাবা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এই যুগে এটা কেমন করে সম্ভব! বাড়ির ভেতরে একজন নতুন বউ আছে আর ঐ বাড়ির বাইরের দুই গেইটে চারটা তালা আর ভেতরের গেইটে আরো চারটা তালা মোট আটটা তালা!! বাবা কিছুতেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছেন না যে তার মেয়ে একলা একটা বাড়িতে এবং তাকে এই আধুনিক যুগে তালাবদ্ধ করে রাখা রয়েছে। তাও কিনা আটটা তালা!!
এটা ভেবেই বাবার চোখে পানি এসে যায়। আপু বাবাকে দেখে কান্না করে দেয়। বিয়ের পর এই প্রথম বাবা আপুর শ্বশুরবাড়ি আসে কিন্ত আপুর এতোই পোড়া কপাল যে আপু বাবাকে ভেতরে এসে বসতে বলবে সেই সুযোগটাও আপুর হাতে ছিলো না। কারণ আপুর কাছে তো চাবি ছিলো না। আপুর স্বামী আর শ্বাশুড়ি আপুকে বাড়িতে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে তারা চাবি নিয়ে আপুর স্বামীর আজ একটা পরীক্ষা ছিলো ঐ পরীক্ষায় চলে যায়।
বাবা তখন আপুকে বলে আমি তোর স্বামীর বিরুদ্ধে আমি মামলা করবো। তখন আপু বাবাকে হাত জোর করে বলে না বাবা এসব কিছু করার দরকার নেই। আমি সময় বুঝে এখান থেকে চলে আসবো। আমি এখানে থাকতে পারবো না বাবা। ও আমাকে অনেক অত্যাচার করে । আর বাবা তোমরা কোন টেনশন করবে না আমি এই কয়দিনের মধ্যেই এই বাড়ি ছেড়ে তোমাদের কাছে চলে আসবো। আমি এখান থেকে বের হয়েই আম্মার ফোনে ফোন দিয়ে তোমাদেরকে জানাবো। বাবা তুমি এখানে আর দেরি না করে চলে যাও। ওরা এসে তোমাকে দেখলে সমস্যা হবে। তুমি চলে যাও বাবা। আপুর এই অবস্থা দেখে বাবা কিছুতেই চোখের জল আটকে রাখতে পারছিলো না। তখন বাবা চোখে জল নিয়েই বাড়ি ফিরে আসে। তারপর থেকে আমরা আপুর ফোনের অপেক্ষায় থাকি। এইভাবে দুইদিন কেটে যায়। এরপর তিনদিনের দিন রাতে....
চলবে....

No comments:

Post a Comment