গল্পঃআপুর বিয়ে (সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
পর্বঃ০১
পর্বঃ০১
আমি যখন ক্লাস টেইনে পড়ি তখন আমার আপু অবন্তী একটা সরকারি কলেজে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়তো। আপু আমাকে অনেক আদর করতো আর স্বপ্ন দেখাতো তুই অনেক বড়ো হবি। যদিও আমার তখন এইসব ভালো লাগতো না গায়ে মাখতাম না খুব বিরক্ত লাগতো। এখন আসি আসল কথায় তখন আপুকে একটা ছেলে ফেসবুকে নক করে এবং ছেলেটা পরিচয় দেয় যে আপুর অমুক স্যারের খুব ঘনিষ্ট কেউ। আপু দুইদিন পর তার মেসেজ এর রিপ্লে করে। আপু খোঁজ নিয়ে দেখলো ছেলেটা আপুর কলেজের পাশের স্কুলের হেড মাষ্টারের ছেলে। ছেলেটা ইংরেজিতে মাস্টার্স শেষ করে তখন এল.এল.বি পড়তেছিলো। যতটুকু আন্দাজ করা গেছে তাতে বুঝা গেছে ছেলেটা যথেষ্ঠ টেলেন্টেড। ছেলেটির নাম ছিলো আবির। তাদের মধ্যে মেসেজিং চলতে থাকলে আস্তে আস্তে প্রেম ও হয়ে যায় এবং আপু বাসায় এটা শেয়ার করলে বড় ভাইয়া ছাড়া বাকি সবাই আপুর পছন্দকে প্রাধান্য দেয়। আর আপুও ছেলেটাকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলে। আপু টিউশন থেকে যতো টাকা পেতো তার তিনভাগের দুইভাগই তার সাথে ফোনে কথা বলায় ব্যয় করতো। যেহেতু আমাদের বাসার সবাই এটা জানতো তাই আপুকে এই বিষয়ে কেউ কিছু বলতো না। তারপর খোজ নিয়ে দেখা গেলো আবির ভাইয়ার বাবা আমার বাবার বন্ধু এবং তারা স্কুল লাইফে একসাথে পড়াশোনা করেছেন। আপু একদিন আবির ভাইয়াকে বাসায় নিয়ে আসছিলো। ঐ দিন বুঝলাম যে আবির ভাইয়া যথেষ্ট লাজুক এবং বিয়ের পর আমার আপুর আঁচল ছাড়বে না। আমাকে পাশে ডেকে আমি কোন ক্লাসে পড়ি এসব হাবিজাবি জিগ্যেস করেছিলো। ওনার কথা শুনে ওনাকে খুব স্মার্ট মনে হয়েছিলো। ঐ দিন তিনি বেশিক্ষণ দেরি না করে চলে গিয়েছিলো। তার কয়েকদিন পর এক রাতে যখন আমি পড়তেছিলাম তখন দেখলাম যে আপু বাইরে থেকে এসে চুপচাপ বসে আছে আর আপুর চোখের কোণে পানি। কিন্তু বুঝে উঠতে পারিনি যে কেনো আপুর চোখে পানি।
তার অল্প কয়েকদিন পরেই দুই ফ্যামিলির সিদ্ধান্তে আপুর আংটি বদল হয়ে যায় এবং আবির ভাইয়ার সাথে আপুর বিয়ের দিন তারিখ ও ঠিক হয়ে যায়।
আংটি বদলের একদিন পরেই দেখি ঐ রাতের মতো আজ রাতেও আপুর চোখে পানি। এতোটুকু বুঝতে পারলাম যে নিশ্চয়ই আবির ভাইয়ার সাথে আপুর কোনো ঝামেলা হয়েছে। ঐ দিকে মা বলছে যে এই বিয়ের দরকার নেই তাদের আংটি তাদেরকে ফেরত দিয়ে দিলেই হবে। কিন্তু আপু বারবার মাকে বুঝাচ্ছিলো যে মা বিয়ের পর সবঠিক হয়ে যাবে আর আপু আবির ভাইয়াকে অনেক বেশি ভালোবাসতো।
তার অল্প কয়েকদিন পরেই দুই ফ্যামিলির সিদ্ধান্তে আপুর আংটি বদল হয়ে যায় এবং আবির ভাইয়ার সাথে আপুর বিয়ের দিন তারিখ ও ঠিক হয়ে যায়।
আংটি বদলের একদিন পরেই দেখি ঐ রাতের মতো আজ রাতেও আপুর চোখে পানি। এতোটুকু বুঝতে পারলাম যে নিশ্চয়ই আবির ভাইয়ার সাথে আপুর কোনো ঝামেলা হয়েছে। ঐ দিকে মা বলছে যে এই বিয়ের দরকার নেই তাদের আংটি তাদেরকে ফেরত দিয়ে দিলেই হবে। কিন্তু আপু বারবার মাকে বুঝাচ্ছিলো যে মা বিয়ের পর সবঠিক হয়ে যাবে আর আপু আবির ভাইয়াকে অনেক বেশি ভালোবাসতো।
তাই আপু চাচ্ছিলো বাকি জীবনটা যেনো ভালোবাসার মানুষের সাথেই কাটাতে পারে। আপু মাকে অনেক বুঝিয়ে আর বিয়ে ভাঙতে দেয় নি। আস্তে আস্তে বিয়ের দিন চলে আসে আর বিয়ের দিন বুঝতে পারছিলাম যে হয়তো আবির ভাইয়ার মাথায় কোন প্রবলেম আছে। কারণ দুনিয়ায় আমি এই প্রথম দেখলাম যে বিয়েতে পাত্র আসে মোটরসাইকেলে চড়ে এবং পাঞ্জাবি পায়জামা মাথায় পাগড়ি না পড়ে গরমের দিন একটা শীতের জামা গায়ে দিয়ে! সেটা বড়ো কথা নয় বড়ো কথা হলো সবাই বিয়েতে হাজির এমনকি সবার খাওয়া দাওয়া শেষ কিন্তু পাত্রসাহেব এখনো আসেন নি। তিনি আমাদের বাড়ি থেকে ক্ষাণিকটা দূরে মোটরসাইকেলে বসে ফোন করে বলছেন যে তিনি আসতে পারবেন না। আর তিনি ফোনে কবুল বলবেন যাই হোক আপুর অনেক বুঝানোর পর তিনি মোটরসাইকেলে চড়ে হাজির হলেন এবং তিনি ঐ সময় একটা চরম বেয়াদবের পরিচয় দিলেন। তিনি একজন বর আর তার সামনে দাড়িয়ে থাকা তার চাচা শ্বশুর এমনকি একটুপর যেই মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন সেই মেয়ের বাবা মানে আমার বাবা তার শ্বশুরকেউ পর্যন্ত সে সালাম দেই নি। তার এই ব্যবহারে আমার বড় ভাইয়া চাচারা খুব রেগে গিয়েছিলেন কিন্তু আপুর নিষেধে তাকে কিছু বলা হয় নি। একটুপর আবির ভাইয়ার সাথে আমার আপুর বিয়ে টা সম্পন্ন হয়ে গেলে ঐ বেয়াদবটা আপুকে রেখে সে মোটরসাইকেলে করে একাই চলে যায় আর তার বাবা মা আপুরা আমার আপুকে নিয়ে তাদের বাসায় যায়। যাওয়ার আগে আপু আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিলো। অনেক আদরের ভাই ছিলাম আমি। বিয়েতে এসে আমার আপুর ঐ বেয়াদব জামাইটা কিছুই খাইনি বলে আমার মা তার জন্য কিছু খাবার প্যাকেটে করে দিয়ে দিয়েছিলো। যতোই হোক মেয়ের জামাই তো.....
চলবে.....
No comments:
Post a Comment